সোমবার, ১৩ই আষাঢ়, ১৪২৯ বঙ্গাব্দ , ২৯শে জিলকদ, ১৪৪৩ হিজরি, ২৭শে জুন, ২০২২ খ্রিস্টাব্দ
চলতি বছর জিডিপি প্রবৃদ্ধি হবে ৭ দশমিক ২৪ শতাংশ : অর্থমন্ত্রী Reviewed by Momizat on . চলতি অর্থবছরে (২০১৬-১৭) জিডিপির প্রবৃদ্ধি ৭ দশমিক ২৪ শতাংশ হবে বলে আশা প্রকাশ করেছেন অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত। তিনি জানিয়েছেন, আগামী অর্থবছরে (২০১৭-১৮) চলতি অর্থবছরে (২০১৬-১৭) জিডিপির প্রবৃদ্ধি ৭ দশমিক ২৪ শতাংশ হবে বলে আশা প্রকাশ করেছেন অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত। তিনি জানিয়েছেন, আগামী অর্থবছরে (২০১৭-১৮) Rating: 0
You Are Here: Home » অর্থনীতি » চলতি বছর জিডিপি প্রবৃদ্ধি হবে ৭ দশমিক ২৪ শতাংশ : অর্থমন্ত্রী

চলতি বছর জিডিপি প্রবৃদ্ধি হবে ৭ দশমিক ২৪ শতাংশ : অর্থমন্ত্রী

144800aaabচলতি অর্থবছরে (২০১৬-১৭) জিডিপির প্রবৃদ্ধি ৭ দশমিক ২৪ শতাংশ হবে বলে আশা প্রকাশ করেছেন অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত। তিনি জানিয়েছেন, আগামী অর্থবছরে (২০১৭-১৮) জিডিপি প্রবৃদ্ধির লক্ষ্যমাত্রা ৭ দশমিক ৪ শতাংশ নির্ধারণ করা হয়েছে।

গত ২০১৫-১৬ অর্থবছরে জিডিপির প্রবৃদ্ধি ছিল ৭ দশমিক ১১ শতাংশ। বর্তমানে দেশে ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানের ঋণ খেলাপি ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের সংখ্যা দুই লাখ দুই হাজার ৬২৩ বলে জানান তিনি।  আজ মঙ্গলবার জাতীয় সংসদ অধিবেশনে প্রশ্নোত্তর পর্বে এসব তথ্য জানান অর্থমন্ত্রী।

সংরক্ষিত নারী আসনের সদস্য পিনু খানের প্রশ্নের জবাবে অর্থমন্ত্রী জানান, খেলাপি ঋণ আদায়ে সরকার ইতিমধ্যে অর্থঋণ আদালত আইন ২০০৩ প্রণয়ন করেছে। ওই আইনের আওতায় খেলাপি গ্রাহকদের বিরুদ্ধে মামলা করা হচ্ছে। এ ছাড়া দেউলিয়া আইন ১৯৯৭ এর আওতায় খেলাপি গ্রাহকদের বিরুদ্ধে মামলা করার মাধ্যমে খেলাপি ঋণ আদায় করা হচ্ছে। বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে ব্যাংকগুলোকে প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা দেওয়া হয়েছে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।

জাতীয় পার্টির সদস্য পীর ফজলুর রহমানের প্রশ্নের জবাবে অর্থমন্ত্রী জানান, খেলাপি ঋণ আদায়ে সরকার খেলাপি গ্রাহক চিহ্নিতকরণ ও তাদেরকে আইনের আওতায় আনার জন্য বিভিন্ন পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। এ বছর তিন হাজার ১৫২ কোটি টাকা খেলাপি ঋণ আদায় হয়েছে।

মন্ত্রীর তথ্য অনুযায়ী, সোনালী ব্যাংকের ১০ হাজার ৬২৯ কোটি খেলাপি ঋণের বিপরীতে ৬৫৪ কোটি, জনতা ব্যাংকের ছয় হাজার ৫১০ কোটি খেলাপি ঋণের বিপরীতে ২৫৪ কোটি, অগ্রণী ব্যাংকের ছয় হাজার ৮৬ কোটি খেলাপি ঋণের বিপরীতে ৪৮৩ কোটি, রূপালী ব্যাংকের চার হাজার ২৬৪ কোটি খেলাপি ঋণের বিপরীতে ৩২৮ কোটি, বেসিক ব্যাংকের সাত হাজার ৩৭৪ কোটি খেলাপি ঋণের বিপরীতে ১৫০ কোটি, বিডিবিএল’র ৮৫৪ কোটি খেলাপি ঋণের বিপরীতে ১৩০ কোটি, কৃষি ব্যাংকের চার হাজার ৬৭৯ কোটি খেলাপি ঋণের বিপরীতে ৯৩০ কোটি এবং রাজশাহী কৃষি উন্নয়ন ব্যাংকের এক হাজার পাঁচ কোটি খেলাপি ঋণের বিপরীতে ২২৩ কোটি টাকা আদায় করা হয়েছে।

সরকারি দলের সদস্য মামুনুর রশীদ কিরণের প্রশ্নের জবাবে বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) সাময়িক হিসাবের উদ্ধৃতি দিয়ে মন্ত্রী জানান, এবার প্রবৃদ্ধি ৭ দশমিক ২৪ শতাংশ পৌঁছাবে। উচ্চ প্রবৃদ্ধি অর্জনে সরকারের পক্ষ থেকে বিভিন্ন পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। পদক্ষেপগুলোর মধ্যে রয়েছে দ্রুত অর্থনৈতিক উন্নয়ন তথা শিল্পায়ন, কর্মসংস্থান, উৎপাদন, রপ্তানিবৃদ্ধি ও রপ্তানিপণ্য বহুমুখীকরণ। এসব কাজকে উৎসাহিত করতে সম্ভাবনাময় এলাকায় অর্থনৈতিক অঞ্চল প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

অর্থমন্ত্রী বলেন, “সারা দেশে এক শটি অর্থনৈতিক অঞ্চল প্রতিষ্ঠার নীতিগত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। ২০১৭ সালের মে পর্যন্ত ২২টি অর্থনৈতিক অঞ্চল স্থাপনের অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। আর ৫৯টি অর্থনৈতিক অঞ্চলের জন্য স্থান নির্বাচন এবং ৭৬টি অর্থনৈতিক অঞ্চল গভর্নিং বোর্ড কর্তৃক অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। ” এ ছাড়া ২০১৭-১৮ অর্থবছরে আরো ১০টি অর্থনৈতিক অঞ্চলের উন্নয়ন কাজ উদ্বোধনের পরিকল্পনা রয়েছে বলে জানান তিনি।

একই প্রশ্নের জবাবে আবুল মাল আবদুল মুহিত জানান, বিনিয়োগের প্রতিবন্ধকতায় বিদ্যুৎ ও গ্যাসপ্রাপ্তিতে বিলম্ব, বিনিয়োগ প্রক্রিয়াকরণে প্রাতিষ্ঠানিক জটিলতা, নিষ্কণ্টক জমির অভাব, ঋণের উচ্চ সুদের হার ইত্যাদি বাধা অপসারণে বিভিন্ন পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়েছে। তিনি জানান, ভূমি ব্যবস্থাপনা, রেকর্ড ও রেজিস্ট্রেশন পদ্ধতি আধুনিকায়নের কার্যক্রম দ্রুততর করার উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে। আর্থিক খাতে সংস্কারের মাধ্যমে ঋণের সুদের হার কমানোর পাশাপাশি বিদেশ থেকে স্বল্প সুদে ঋণ গ্রহণের সুযোগ সৃষ্টি করা হয়েছে। তিনি আরো জানান, বাজেট ঘাটতি সীমিত রাখাসহ ব্যাংক ব্যবস্থা থেকে ব্যক্তিখাতে ঋণের প্রবাহ নির্বিঘ্ন রাখা হয়েছে। আর্থিক খাতে পরিচালন পদ্ধতিসহ দক্ষতা বৃদ্ধির মাধ্যমে ঋণের সুদের হার কমিয়ে বিনিয়োগ উৎসাহিত করা হয়েছে।

মন্ত্রী বলেন, “ওয়ান স্টপ সার্ভিস প্রদানের মাধ্যমে বিনিয়োগের পরিবেশ উন্নত করতে বিনিয়োগ বোর্ড ও প্রাইভেটাইজেশন কমিশনের কার্যক্রমকে একীভূত করে বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ ‘বাংলাদেশ ইনভেস্টমেন্ট ডেভেলপমেন্ট অথরিটি (বিআইডিএ) গঠন করা হয়েছে। তিনি বলেন, “২০২১ সাল নাগাদ ২৪ হাজার মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। প্রবৃদ্ধি সঞ্চারী (ট্রান্সফরমেশনাল প্রজেক্ট) ১০টি বৃহৎ অবকাঠামো প্রকল্প দ্রুততম সময়ে বাস্তবায়নের জন্য পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়েছে। টেকসই প্রবৃদ্ধি নিশ্চিত করতে শ্রম, সেবা ও পণ্যের উন্নয়নে গৃহীত প্রকল্পসমূহের কাজ চলমান রয়েছে। “

স্কুল ব্যাংকিং কার্যক্রমের ওপর আবগারি শুল্কের প্রভাব পড়বে না বলে সংসদে জানিয়েছেন অর্থমন্ত্রী। সরকারদলীয় সদস্য কামাল আহমেদ মজুমদারের প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী জানান, ২০১৭-১৮ অর্থ-বছরে ব্যাংকিং হিসাবের ক্ষেত্রে এক লাখ টাকা পর্যন্ত আবগারি শুল্ক মওকুফ করা হয়েছে, যা বর্তমান সরকারের একটি যুগান্তকারী পদক্ষেপ। তাই আবগারি শুল্কের প্রভাব কোমলমতি শিশুদের স্কুল ব্যাংকিং কার্যক্রমের ওপর পড়বে না বলে দাবি করেন তিনি।

রিজার্ভ থেকে চুরি যাওয়া অর্থের বেশির ভাগই আদায় হয়নি
সরকারদলীয় সংসদ সদস্য মো. আবদুল্লাহ’র প্রশ্নের জবাবে অর্থমন্ত্রী জানান, বাংলাদেশ ব্যাংকের রিজার্ভ থেকে চুরি যাওয়া ১০১ মিলিয়ন মার্কিন ডলারের মধ্যে ৬৬ দশমিক ৩৭ মিলিয়ন মার্কিন ডলার পাওয়া যায়নি। ফিলিপাইনে পাঠানো অবশিষ্ট অংশ উদ্ধারে সব সংস্থা একযোগে কাজ করছে। তিনি জানান, বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে চুরি যাওয়া ১০১ মিলিয়ন মার্কিন ডলারের মধ্যে শ্রীলংকায় পাঠানো ২০ মিলিয়ন মার্কিন ডলার নিউ ইয়র্কের ফেডারেল রিজার্ভ ব্যাংক (এফআরবি, এনওয়াই) যুক্তরাষ্ট্রে ফেরত দেয়। অন্যদিকে, ফিলিপাইনে পাঠানো বাকি ৮১ মিলিয়ন মার্কিন ডলারের মধ্যে এখন পর্যন্ত ১৪ দশমিক ৬৩ মিলিয়ন মার্কিন ডলার এফআরবি, এনওয়াই’র বাংলাদেশ ব্যাংকের হিসাবে জমা করা হয়েছে।

একই প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী জানান, ফিলিপাইনে পাঠানো টাকার অবশিষ্ট অংশ উদ্ধারে বাংলাদেশ ব্যাংক, বাংলাদেশ ফাইন্যাশিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিট, অর্থ মন্ত্রণালয়, অ্যাটর্নি জেনারেল কার্যালয়, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, বাংলাদেশ পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগসহ সব সংস্থা একযোগে কাজ করছে। তিনি জানান, এ চুরির ঘটনায় ইতিমধ্যে ফিলিপাইনের বিভিন্ন কর্তৃপক্ষ কর্তৃক সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে এবং চুরিকৃত অবশিষ্ট অর্থ উদ্ধারে বর্তমানে ফিলিপাইনের আইনি উদ্যোগ চলমান রয়েছে।

এ সংবাদটি এ পর্যন্ত 964 জন পাঠক পড়েছেন

About The Author

Number of Entries : 4058

Leave a Comment

সম্পাদক ও প্রকাশক মো: ইকবাল হোসেন
অফিস: ৯ নং সুরমা মার্কেট,৩য় তলা সিলেট।
ইমেইল-dailychironton@gmail.com
ওয়েব-www.dailychironton.com
মোবাইল-০১৭১৬-৯৬৯৯৭৮

© 2015 Powered By dailychironton.Designed by M.A.Malek

Shares
Scroll to top