দেশীয় চলচ্চিত্রের জনপ্রিয় মুখ অপু বিশ্বাস। ৫ই ফেব্রুয়ারি তার অভিনীত ‘রাজা ৪২০‘ ছবিটি মুক্তি পেয়েছে। উত্তম আকাশ পরিচালিত এ ছবিতে অপুর বিপরীতে অভিনয় করেছেন শাকিব খান। বর্তমানে বুলবুল বিশ্বাস পরিচালিত ‘রাজনীতি’ ছবির কাজ করছেন অপু। এছাড়া মুক্তির অপেক্ষায় রয়েছে মুহাম্মদ মোস্তফা কামাল রাজ পরিচালিত ‘সম্রাট’ ছবিটি। এফডিসিতে ‘রাজনীতি’ ছবির শুটিং সেটে বসে আজকের ‘আলাপন’-এ চলচ্চিত্রের নানা বিষয় নিয়ে কথা বলেছেন অপু বিশ্বাস। তার সাক্ষাৎকারটি নিয়েছেন কামরুজ্জামান মিলু
আপনার এ বছরের প্রথম ছবি ‘রাজা ৪২০’ মুক্তি পেয়েছে। ছবিটি দেখতে প্রেক্ষাগৃহে গিয়েছিলেন কি ?
এটা উত্তম আকাশের সঙ্গে আমার দ্বিতীয় ছবি। এর আগে তার পরিচালিত ‘ভালোবাসা দিবি কিনা বল’ ছবিতে অভিনয় করেছিলাম। কমেডি ও রোমান্টিক কাহিনীর এ ছবিটা দর্শকরা পছন্দ করছেন। চারদিক থেকে ভালো সংবাদ আসছে। এজন্য মনটা খুব ভালো। শুটিং থাকার কারণে আমার এখনও ছবিটি দেখা হয়ে ওঠেনি। তবে এরই মধ্যে সময় করে অবশ্যই দেখব।
ঢাকার কোন প্রেক্ষাগৃহে বেশি ছবি দেখা হয় আপনার ?
ঢাকাতে মধুমিতা প্রেক্ষাগৃহে বেশি ছবি দেখতে যাওয়া হয়। এরপর এশিয়া, স্টার সিনেপ্লেক্স, বসুন্ধরার ব্লকবাস্টারসহ বেশকিছু প্রেক্ষাগৃহে ছবি দেখতে যাই। আর পূর্ণিমা হলেও একবার ছবি দেখতে গিয়েছিলাম। আমার মনে হয়, প্রেক্ষাগৃহের পরিবেশ ভালো হলে ছবি দেখতে যাওয়ার আগ্রহটা সকলের বাড়ে।
এখন কোন কোন ছবির শুটিং করছেন ?
এরই মধ্যে মুহাম্মদ মোস্তফা কামাল রাজ পরিচালিত ‘সম্রাট’ ছবির কাজ শেষ করেছি। আর এই মুহূর্তে ‘রাজনীতি’, ‘মাই ডার্লিং’, ‘লাভ ২০১৬’, ‘মা’ ও ‘পাংকু জামাই’ ছবির কাজ বাকি রয়েছে। এগুলোর কাজ ধীরে ধীরে শেষ করে ফেলব। এগুলোর মধ্যে আমার মনে হয় ‘রাজনীতি’ ও ‘সম্রাট’ ছবি দুটি আগে মুক্তি পাবে।
এবার ভিন্ন প্রসঙ্গ, তারকারা অভিনয়ের বাইরে অন্য ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত হচ্ছেন, এই যেমন আপনারও একটি ব্যায়ামাগার রয়েছে। এ বিষয়ে মন্তব্য কি ?
আমার কাছে মনে হয়, প্রত্যেকদিন তো আর আমার শুটিং থাকে না। তাই মনটাকে পরিবর্তনের জন্য ভিন্ন কিছুর চিন্তা করলাম। সেই চিন্তা থেকে আমি ব্যায়ামাগার দিয়েছি। আমাদের চলচ্চিত্রের আরেক মুখ নিপুণ আপুকে অভিনন্দন জানাতে চাই তার নতুন পার্লারের জন্য। কয়েক বছর আগে আমি যখন মুটিয়ে গিয়েছিলাম তখন শুকানোর জন্য একটা ব্যায়ামাগার খুঁজছিলাম। বেশিরভাগ ব্যায়ামাগারে ছেলে ও মেয়ে একসঙ্গে ব্যায়াম করে। যা আমার জন্য না। তাই সবকিছু চিন্তা করে ছোট পরিসরে নিজেই ‘এপিএস লেডিস ফিটনেস ক্লাব’ নামে ব্যায়ামাগারটি দিয়ে দেই। বর্তমানে এখানে ৬৫০ এর বেশি সদস্য আছে। তিন বছর হতে চললো আমার এই ব্যায়ামাগারের। এখন অনেক ছোট পরিসরে আছে এটি। পাঁচ বছর হলে বড় পরিসরে একটা অনুষ্ঠান করে ব্যায়ামাগারটি ভিন্ন জায়গায় নেয়ার ইচ্ছে আছে আমার। আমি সময় করে নিয়মিত সেখানে ব্যায়াম করি।
আগের চেয়ে আপনি কি একটু মুটিয়ে গিয়েছেন ? ওজন কত এখন আপনার?
আমি মাঝে ‘সম্রাট’ ছবির চরিত্রের জন্য ওজন বাড়িয়েছি। এখন আমার ওজন ৬৩ কেজি। তবে আবার ৫৮-এ ফেরার চেষ্টা করছি। হয়েও যাবে আশা করছি।
চলচ্চিত্রের সময়টা এখন ভালো যাচ্ছে না। চলচ্চিত্রের আগের সেই সুদিন কি ফিরে পাবো বলে আপনি মনে করেন?
এক্ষেত্রে চলচ্চিত্র শিল্পীদেরও অনেক দায়িত্ব থাকে। তাদেরও সব দিক থেকে সচেতন থাকা উচিত। অনেক সময় আমরা নিজেরাই এক অন্যের দিকে কাঁদা ছোড়াছুড়ি করি, তখন তো বাইরের মানুষ সেটা দেখে রহস্য খুঁজবেই। আর আমাদের দিক থেকে মুখ ফিরিয়ে নেয়ার পাশাপাশি আমাদের অভিনীত ছবিগুলোর দিক থেকেও মুখ ফিরিয়ে নেবে। আমাদের কাজের প্রশংসা দরকার। আমি একটি কথাই বলতে চাই, আমাদের চলচ্চিত্রের ক্ষরার এই মূল কারণ যেমন আমরা তেমনি ক্ষরাটা দূরও করতে পারব আমরাই। তবে এজন্য আমাদের ইউনিটি দরকার যেন একে অপরের মধ্যে কাঁদা ছোড়াছুড়ি না হয়।
দর্শক কি বর্তমানে প্রেক্ষাগৃহে গিয়ে কোনো বিনোদন খুঁজে পাচ্ছেন না ?
না বিষয়টি এমন না। শিল্পের মান, শৈল্পিকতা এবং শিল্পীর দায়িত্ববোধের জায়গাটা যেন ঠিক থাকে। একজন শিল্পীর জন্যই দর্শকের মন ভেঙ্গে যায়। কারণ শিল্পীদের নানা কর্মকান্ডের জন্যই বিভিন্ন ধরনের
সংবাদ প্রকাশ হয়। দর্শকরা তো শিল্পীদের পর্দায় দেখেন এবং তাদের পছন্দ করে প্রেক্ষাগৃহে ছবি দেখতে যান। প্রিয় শিল্পীদের সম্পর্কে নানা নেতিবাচক সংবাদে দর্শক বা ভক্তের মন ভেঙ্গে যায়। আর এ কারণে ছবিবিমুখও হয়ে পড়েন তারা। অবশ্য দর্শক আবারও প্রেক্ষাগৃহে ফিরবেন বলে আমার বিশ্বাস। কারণ প্রত্যেকটা মানুষের বিনোদন প্রয়োজন আছে। কেউ গান শুনে খুশি হন আবার কেউ গান বা চলচ্চিত্র দেখে খুশি হন। শ্রোতা বা দর্শকের আমরা আসলে সঠিকভাবে ব্যবহার করতে পারছি না। দর্শকরা তো ছবি দেখার জন্য মুখিয়ে আছে। কোনো মানুষ বিনোদনের বাইরে না। আমরা যখন সবাই মিলে ভালো একটা কাজ করব, তখন সব শ্রেনীর দর্শকরা বিনোদন খুঁজে পাবেন এবং আবারও প্রেক্ষাগৃহে গিয়ে ছবি দেখবেন।
Leave a Reply